কোয়ারেন্টিনে শিশুদের মানসিক সুস্থতা

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দীর্ঘদিন ধরে লকডাউনের ফলে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ একরকম ঘরবন্দী জীবনযাপন করছে। এর জন্যে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে আমাদের শিশুরা। দীর্ঘ লকডাউনের ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় তাদের মানসিকতার ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। অভিভাবকদের মনে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের মানসিক চাপ কমিয়ে আনার জন্যে চমৎকার কিছু পরামর্শ নিয়ে হাজির হয়েছি আমরাঃ

১। শিশুকে সময় দিন

এই কঠিন পরিস্থিতিতে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে এইসময়টা কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। অনেক চাকুরীজীবী বাবা মা হয়তো এখন ঘরে আছেন, বা কর্মঘণ্টা কমে এসেছে। ডাক্তার, পুলিশ, প্রশাসন ও ব্যাংকে চাকরী করা অনেক বাবা মা সেই সুযোগ টা পাচ্ছেন না। তারপরেও সাধ্যমতো শিশুদের সাথে সময় কাটান, নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করুন। এতে আপনাদের দুশ্চিন্তাও কমে  আসবে কিছুটা।

২। অযথা বাড়তি চাপ দেবেন না

অনেক বাবা মা ভাবেন এই সময়টা কাজে লাগাতে যতটা সম্ভব শিশুকে দিয়ে পড়া এগিয়ে রাখবেন। এজন্যে অনেকে সারাদিন বাচ্চাকে পড়াশোনা করতে চাপ দেন। এটি করতে গিয়ে অনেকে সন্তানদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলে দেন,যা পরবর্তীতে সুদূরপ্রসারী সমস্যার জন্ম দেয়। এতে শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভা নষ্ট হয়। তারা আত্মপ্রত্যয়হীনতা ও হীনমন্যতায় ভোগে।

৩। রূপকথা ও শিশুতোষ গল্প পড়ে শোনান

যান্ত্রিক জীবনের থেকে মুক্তির স্বাদ নিয়ে কিছুক্ষণ অন্যকোনো জগতে হারিয়ে যেতে সাহিত্যের বিকল্প নেই। আর রূপকথা তো একটা সংস্কৃতির আবহমান কাল ধরে লালিত ঐতিহ্য নিয়ে সৃষ্টি রূপক কাহিনী। নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে এক ধরণের আত্মিক বন্ধন তৈরি করে রূপকথার গল্পগুলো। দেশি বিদেশি রূপকথা সহ অন্য শিশুতোষ ছড়াগল্প পড়ে শোনান শিশুদের। ওদেরকেও নিজে পড়তে উৎসাহ দিন।

৪। শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ দিন

অবসরে শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্যে ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শোনা, বিজ্ঞানের সহজ প্রজেক্ট তৈরি, অরিগামি (কাগজ ভাঁজ করে বিভিন্ন কিছু তৈরি), কারুশিল্প বা ক্রাফটিং যেকোনো কিছুতে উৎসাহ দিন। দুশ্চিন্তা বা চাপ মোকাবেলায় এসব হতে পারে চমৎকার কিছু উপায়।

৫। বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে দিন

সরাসরি যোগাযোগে ঝুঁকি থাকলে বিভিন্ন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বা ফোনে বন্ধুদের সাথে শিশুকে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে দিন। মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব, সামাজিক যোগাযোগ হারালে একধরণের বিচ্ছিন্নতা শিশুকে গ্রাস করতে পারে। তাই বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া চলবে না। একইভাবে পরিবারের অন্য সদস্য এবং আত্মীয় স্বজনের সাথেও দূরে থেকেই জুড়ে থাকুক শিশুরা।

৬। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খেয়াল রাখুন

অটিজম সহ বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খেয়াল রাখুন। একটু বাড়তি সময় বা যত্ন লাগে এই শিশুদের। অনেক সময় আমরা বিরক্ত হয়ে বা অন্যকোনো সমস্যার জন্যে রাগ দেখিয়ে ফেলি বা মানসিকভাবে আঘাত দিই। এটা কোনোভাবেই করা যাবেনা। নিজেদেরকে ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেনা বলে তাদের প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখা আমাদের দায়িত্ব।

দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা মোকাবেলায় মানসিক সুস্থতা ও দৃঢ়তা সবচেয়ে জরুরী। নিজেকে সময় দিন, প্রফুল্ল থাকার চেষ্টা করুন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো সময় কাটাতে চেষ্টা করুন। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ছোট সোনামনিদেরকে  নিয়ে লিখেছেন: শাবাব তাহসিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি বিভাগ, স্নাতকোত্তর

 50 total views,  2 views today

Please follow and like us:

One thought on “কোয়ারেন্টিনে শিশুদের মানসিক সুস্থতা

  • August 25, 2020 at 1:31 am
    Permalink

    That was really helpful.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *